বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১২ এপ্রিল ২০১৭

অর্জন

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথমবারের মত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের 
নিজস্ব ফান্ড থেকে বঙ্গবন্ধু ছাত্রবৃত্তি চালুকরণ।


বঙ্গবন্ধু ছাত্রবৃত্তির উদ্দেশ্য ও কাঠামো ঃ

উদ্দেশ্যঃ
    মুক্তিযোদ্ধাদের মেধাবী সন্তান/পরবর্তি প্রজন্মদেরকে লেখা-পড়ায় সহায়তা করা ও উৎসাহ যোগানো।
    মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রবাহ নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাগ্রত রাখা ও শক্তিশালিকরণ।
 
কাঠামো ঃ  

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ১৪.০৩.২০১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত ৬৫তম সভায় ‘বঙ্গবন্ধু ছাত্র বৃত্তি’ প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বঙ্গবন্ধু ছাত্রবৃত্তির জন্য ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল হতে ইতোমধ্যে ৩০,৮২,৫০,৬৮৫/- টাকার একটি স্থায়ী আমানত খোলা হয়েছে। স্থায়ী আমানতের বিপরীতে অর্জিত লভ্যাংশ দ্বারা বৃত্তির টাকা সংকুলান করা হবে। বৃত্তির ধরণ, প্রকৃতি ও পরিমান নিম্নরূপ ঃ

    উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চতর শিক্ষায় অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রী বৃত্তির জন্য দরখাস্ত করতে পারবে। উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার দুই বছর অতিক্রান্তের পূর্বেই এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হবে। ২০১২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ৬০০জনকে মাসিক ১০০০.০০ টাকা হারে বৃত্তি প্রদান করা হবে। বৃত্তির শর্ত লংঘিত না হলে উচ্চ  শিক্ষার মোট সময়কাল অর্থাৎ দরখাস্তকারি অধ্যয়নরত সর্বোচ্চ মাষ্টার্স/সমপর্যায় সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত এ বৃত্তি চালু থাকবে, এবং তা সর্বোচ্চ ৫ বছর বলবৎ থাকবে। তবে, সেশনজটের কারণে অনার্স/ মাষ্টার্স/সমপর্যায় শেষ করতে যে সময় অতিরিক্ত লাগবে সে সময়েও বৃত্তি প্রদান অব্যাহত থাকবে।

    বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রী মেডিকেল/ইঞ্জিনিয়ারিং-এ অধ্যয়নরত হলে মাসিক বৃত্তির হার অন্যান্যদের তুলনায় কিছুটা বেশী নির্ধারিত হবে। এবিষয়ে ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটি কর্তৃক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। 

    দেশের অভ্যন্তরে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে পিএইচডি করার জন্য দুইজন ছাত্র/ছাত্রীকে এই বৃত্তি প্রদান করা হবে। তাদের মাসিক বৃত্তির হার গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় খরচের ভিত্তিতে নির্বাহী কমিটি নির্ধারণ করবে।

    চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের সফল সমাপ্তি এবং সম্ভাবনাময় আরো কিছু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করা গেলে ২০১৪ সাল থেকে বৃত্তির হার ও আওতা আরো বাড়ানো যাবে।


ট্রাস্টের জমি জমা সংক্রান্ত সম্পাদিত কার্যক্রম


    ইষ্টার্ণ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ, ৭১ ও ৩৬ আগ্রাবাদ,  চট্রগ্রাম, জমির পরিমান ০.৪৪৩৬ একর ঃ-

উক্ত জমির মিউটেশন না থাকার কারনে ২০০৪ থেকে মামলা চলমান ছিল। অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে ২০১০ সালে মামলা নিস্পত্তি করে জমির মিউটেশন কল্যাণ ট্রাস্টের নামে করা হয়েছে।


    ভগবানগঞ্জ মৌজার, নারায়নগঞ্জ সদরের, ০.৩৪০৭ একর জমি ৪০ বছরের অবৈধ দখলদারের কবল থেকে উদ্ধার ঃ-

       ১৯৯৮ সালে জজ কোর্ট থেকে কল্যাণ ট্রাস্ট জমির মালিকানা রায় প্রাপ্ত হয়। অবৈধ দখলদার ১৯৯৮ সালেই হাইকোর্টে 
          আপীল করে। দীর্ঘ ১১ বছর হাইকোর্টে কোন শুনানী হয়নি। ২০০৯ - ২০১১ পর্যন্ত মাত্র ০২ বছরে হাইকোর্ট, আপীল   
          বিভাগ ও প্রধান বিচারপতির পূর্নবিবেচনার সকল শুনানী শেষ করে ট্রাস্ট ২০১১ সালে উক্ত জমির দখল পায়।

    ডালপট্টি, সদর মৌজা, নারায়নগঞ্জ, জমির পরিমান ০১.১১ একর ঃ-

        নারায়নগঞ্জে  ডালপট্রিতে ০১.১১ একর জমির ভাড়াটিয়া ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ভাড়া বন্ধ করে দেয় এবং 
          মামলা করে। ২০০৯ সালের পরে ঐ মামলা নিস্পত্তি করা হয়েছে এবং ভাড়াটিয়া নতুনভাবে নির্ধারিত হারে নিয়মিত
          ভাড়া প্রদান করছে এবং পূর্বের সকল বকেয়া আদায় করা হয়েছে। 
     

    রাজধানী সুপার মার্কেট হাটখোলা রোড, ঢাকা, জমির পরিমান ০৩.২৬ একর ঃ-

    
    উক্ত জমির মিউটেশনর ছিল না । মিউটেশন করা হয়েছে এবং ১৯৭২ সাল হতে ভূমি উন্নয়নকর পরিশোধ করে জমিটি  
         নিস্কন্টক করা হয়েছে। 


    পারুমা ইষ্টার্ণ লিঃ, পোস্তগোলা, ঢাকা, জমির পরিমান ০৪.২৩ একর ঃ-

    
        উক্ত জমির  রের্কড সংশোধন করে ট্রাস্টের নামে মিউটেশন করা হয়েছে এবং লীজির সাথে বিদ্যমান ০৫টি মামলা
          নিস্পত্তি করা হয়েছে। 

    
    পূর্ণিমা ফিলিং এন্ড সার্ভিস ষ্টেশন, জমির পরিমান ০.১১০৫ একর ঃ-

        উক্ত প্রতিষ্ঠানটির জমির মিউটেশন ছিল না। মিউটেশন করা হয়েছে। 


    ব্যাংক লোনের কারনে ১৫-২০ বছর ধরে যে সকল প্রতিষ্ঠানের দলিল ব্যাংকে দায়বদ্ধ ছিল এবং মামলা মোকদ্দমার কারনে দলিলাদি আদালতে জমা ছিল। ব্যাংক লোন পরিশোধ করে রিডেমশনান্তে এবং আদালতে মামলা নিস্পত্তিক্রমে মূল দলিল ফেরৎ এনে ট্রাস্টে সংরক্ষন করা হয়েছে।

    ঢাকা সিটি জরীপে ঢাকাস্থ জমিগুলোর একটিরও নামপত্তন ছিল না, যা ইতোমধ্যে সংশোধন করে ট্রাস্টের নামে নাম পত্তন করা হয়েছে।

 

২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্তবকেয়া দায়-দেনা পরিশোধ সংক্রান্ত সম্পাদিত কার্যাবলী ঃ


ক)    ব্যাংক ঋণ মওকুফ    ঃ 
২০০৯ সালে বিভিন্ন ব্যাংকের বকেয়া ঋণের কারনে বাংলাদেশ ব্যাংক মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও এর অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভূক্ত করে। এছাড়া জনতা ব্যাংকের দায়-দেনার জন্য ট্রাস্টের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর বিজ্ঞ অর্থঋণ আদালত কর্র্তৃক ক্রোকী পরোয়ানা জারি করা হয়। পাকিস্তান আমলে তৎকালিন মালিক কর্তৃক গৃহিত ৩.১৮ কোটি টাকা ঋণ ২০০৯ সালে এসে সুদে আসলে ১২৬.৪০ কোটি টাকা দাঁড়ায়। দীর্ঘ ৪০ বছরে এই ঋণের ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় ০২ বছরের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে ২০১২ সালে সুদে-আসলে মোট ১২৬.৪০ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে মওকুফ করানো হয়। 

খ)    ইউটিলিটি (ভূমি উন্নয়ন কর, পৌর কর, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ওয়াসা বিল ইত্যাদি) বিল ঃ

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীন দীর্ঘকাল ধরে বন্ধ ১১টি প্রতিষ্ঠানের (পারুমা, হরদেও, হাইসন্স, মেটাল, মডেল, ইউটিসি, সিরকো সোপ, ট্রাস্ট আধুনিক হাসপাতাল, এমজেসিপি, বাক্সলী পেইন্টস এবং বিশ্রামাগার) নামে ইউটিলিটি (ভূমি কর, পৌর কর, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ওয়াসা বিল ইত্যাদি) বিলসমূহ দীর্ঘ ২০/২৫ বছর যাবত পরিশোধ না করায় মূল বিল বকেয়া দাঁড়ায় ৫.৯৯ কোটি টাকা, যা সারচার্জ/সুদসহ হয়ে যায় মূল বিলের প্রায় ৩ গুন। ২০০৯ সাল থেকে অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে সকল প্রতিষ্ঠানের সব সারচার্জ/সুদ মওকুফ করিয়ে মূল বিল ৫.৯৯ কোটি টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে কয়েকটি উদাহরণ নিুে তুলে ধরা হলো ঃ 

* উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হাইসন্স এর ১৯৮৬ হতে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সময়ের সুদসহ বকেয়া গ্যাস বিল বাবদ ২.৮৫ কোটি টাকা আদায়ের জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষে ডিক্রী জারি করেন। আদালত কর্তৃক সুদসহ পরিশোধের ডিক্রী জারি সত্বেও ২০০৯ সাল থেকে অব্যাহত প্রচেষ্টায় উল্লিখিত বিলের বিপরীতে চার্জকৃত সুদ বাবদ ১.৪৬ কোটি টাকা মওকুফ করে আসল বাবদ ১.৩৯ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

* ১৯৮৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সিরকো সোপের ওয়াসা বিলের বিপরীতে সুদে আসলে বকেয়া হয় ১৬.০০ লক্ষ টাকা। ২০০৯ সাল থেকে অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে ২০১২ সালে ১১.০০ লক্ষ টাকা সুদ মওকুফ করে আসল বাবদ ৫.০০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখন আর কোন বকেয়া নেই।

* ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বিশ্রামাগার কমপ্লেক্সের (গজনবী) বিদ্যুৎ বিলের বিপরীতে সুদে আসলে বকেয়া হয় ১৭.০০ লক্ষ টাকা। ২০০৯ সাল থেকে অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে ১১.০০ লক্ষ টাকা সুদ মওকুফ করে আসল বাবদ ৬.০০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখন আর কোন বকেয়া নেই।

* ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পারুমা ইষ্টার্ণ লিঃ এর বিদ্যুৎ বিলের বিপরীতে সুদে আসলে বকেয়া হয় ৩১.০০ লক্ষ টাকা। ২০০৯ সাল থেকে অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে ২০১২ সালে ৯.০০ লক্ষ টাকা সুদ মওকুফ করে আসল বাবদ ২২.০০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখন আর কোন বকেয়া নেই।

 

 


প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ের ওপর সম্পাদিত কার্যাবলী ঃ

ক)    গ্র্যাচুয়িটি ঃ 
২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া ১০২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্র্যাচুয়িটিসহ সকল সার্ভিস বেনিফিট প্রদান বন্ধ ছিল। ২০১২ সালে এসে পূর্বের বকেয়া ৪.৩৭ কোটি টাকা এবং হাল আমলের ৩.০৫ কোটি টাকাসহ মোট ৭.৪২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো গ্র্যাচুয়িটি বকেয়া নেই এবং বর্তমানে যারা অবসরে যাচ্ছেন তাদের সকল আর্থিক সুবিধা নিয়মিত এককালিন পরিশোধ করা হচ্ছে।

খ)    অর্জিত ছুটি নগদায়ন ঃ

২০০৭ সালে গোল্ডেন হ্যাডশেকের মাধ্যমে অবসরে যাওয়া ৭১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্জিত ছুটির বকেয়া মোট ৬৬.০০ লক্ষ টাকা ২০১৩ সালে সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়েছে।

গ)    চাকুরী থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ ঃ

ট্রাস্টের ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিগত সরকারগুলোর সময়ে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তারা সকলেই ১০-১৫ বছর পর উচ্চ আদালতের রায়ে সকল আর্থিক বেনিফিটসহ চাকুরীতে পুনর্বহাল হয়। ফলে ঐ সকল                 কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকুরীহীন সময়ের বকেয়া প্রায় ১.৬৮ কোটি টাকা ২০১২-২০১৩ সালে পরিশোধ করা হয়েছে।

ঘ)    কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড (সিপিএফ) ঃ

২০০৩ সাল থেকে বকেয়া কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১.৭০ কোটি টাকা ২০১২-২০১৩ সালে পরিশোধ              করা হয়েছে।

ঙ)    গ্র“প ইন্সুরেন্স ঃ

০৬/১১/২০০৯ হতে ০৫/১১/২০১৩ খ্রিঃ পর্যন্ত সময়ের গ্র“প বীমার প্রিমিয়াম বাবদ ১.৩১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

চ)    সিলেকশন গ্রেড, টাইমস্কেল এবং বেতন বৈষম্য ঃ

১৫/২০ বছরের পূর্বে প্রাধিকারপ্রাপ্ত হওয়া ১৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিলেকশন গ্রেড/টাইমস্কেল/বতন বৈষম্য এর বিপরীতে বকেয়া পাওনা ৮০.০০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।  

ছ)    মজুরী কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিপরীতে বকেয়া পরিশোধ ঃ

২০০৯ হতে ২০১২ সাল পর্যন্ত মজুরী কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিপরীতে ৮৩ জনের বকেয়া পাওনা বাবদ ৫৪.০০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

জ)    অডিট আপত্তি ঃ
১৯৭২ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত উত্থাপিত অডিট আপত্তি থেকে ইতোমধ্যে ৪১৭টি আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে, যার আর্থিক সংশ্লেষ ১১৮.০২ কোটি টাকা। তাছাড়া ২০১০ সাল থেকে দীর্ঘ আড়াই বছরের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে ১৯৭২-২০০৩ সময়ের পড়ে থাকা ১১৯৪টি আপত্তি, যার আর্থিক সংশ্লেষ ৯.২৫ কোটি টাকা বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর থেকে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

 


 
উদ্ধার পরিকল্পনা ২০১০ এর আওতায় চারটি প্রকল্প থেকে সম্ভাব্য আয় ও সুবিধাদির পূর্বাভাস

প্রকল্পঃ  ‘টাওয়ার -৭১’

প্রকল্প এলাকা ও জমির পরিমাণ     ঃ    ৭১, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, চট্টগ্রাম। ০.১৯২৭ একর। 

নির্মিতব্য ভবনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা    ঃ    ২৫ তলা বাণিজ্যিক ভবন। কার পার্কিং এর জন্য ৪টি বেইজমেন্ট। প্রতি তলায় নির্মাণ যোগ্য স্থান প্রায় ৪২০০ বর্গফুট।

সাইনিং মানির  পরিমাণ    ঃ    ৭.০০ (সাত) কোটি।

আনুমানিক সম্ভাব্য আয়    ঃ    মূলধন প্রাপ্তি- ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকা।
বাৎসরিক আয় (ভাড়া বাবদ)- ১(এক) কোটি টাকা।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা    ঃ    ২০১২ সালের ২৭ জুন থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যা এখন পূর্ণ উদ্যমে চলমান।

প্রকল্পঃ ‘আবাসিক সিটি-বিজয় নিকেতন’

প্রকল্প এলাকা ও জমির পরিমাণ    ঃ    পোস্তগোলা, ঢাকা। ৪.২৩ একর।

নির্মিতব্য ভবনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা    ঃ    আবাসিক ফ্ল্যাট-প্রায় ৮০০ টি। কমিউনিটি সেন্টার ও ডিপার্টমেন্টার স্টোর সহ প্রায় ৪০০০০ বর্গফুট বাণিজ্যিক এলাকা। কিন্ডার গার্টেন / স্ট্যান্ডার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়। চিলড্রেন পার্ক, খেলার মাঠ, কার পার্কিং, ওয়াটার বডি  ইত্যাদি।

সাইনিং মানির পরিমাণ     ঃ    ১২ (বার) কোটি টাকা।

আনুমানিক সম্ভাব্য আয়    ঃ    মূলধন প্রাপ্তি- ২৪০ (দুইশত চল্লিশ) কোটি টাকা।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা    ঃ    ২০১২ সালের ২৭ জুন থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যা এখন পূর্ণ উদ্যমে চলমান।

প্রকল্পঃ ‘জয়বাংলা বাণিজ্যিক ভবন’

প্রকল্প এলাকা ও জমির পরিমাণ    ঃ    ৩৬, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম। ০.২৪০৯ একর।

নির্মিতব্য ভবনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা    ঃ    ১৮ তলা বানিজ্যিক ভবন। কার পার্কিং এর জন্য ২টি বেইজমেন্ট। প্রতি তলায় নির্মাণ যোগ্য স্থান প্রায় ৫২৫০ বর্গফুট।

সাইনিং মানির পরিমাণ     ঃ    ৮ (আট) কোটি টাকা।

আনুমানিক সম্ভাব্য আয়    ঃ    মূলধন প্রাপ্তি- ৩৭ (সাইত্রিশ) কোটি টাকা।
বাৎসরিক আয় (ভাড়া বাবদ)-৬৬ (ছিষট্টি) লক্ষ।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা    ঃ    ২০১২ সালের ২৭ জুন থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যা এখন পূর্ণ উদ্যমে চলমান।

প্রকল্পঃ ‘ঢাকাস্থ গজনবী সড়কে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণার্থে বহুতল বিশিষ্ট আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ।’

প্রকল্প এলাকা ও জমির পরিমান    ঃ    প্লট নং-১/১, ১/২ ও ১/৩ গজনবী সড়ক মোহাম্মদপুর, ঢাকা। জমির পরিমান ৬০.৮৮ শতাংশ।

প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা    ঃ    ক) বেইজমেন্ট ফ্লোর- ২ টি ঃ গাড়ী পার্কিং।

খ) ১ম তলা ঃ- শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত জায়গা, সাব স্টেশন এবং সার্ভিস ফ্যাসিলেটিস।

গ) ২য়-৫ম তলা ঃ শপিং ও বাণিজ্যিক ব্যবহার।

ঘ) ৬ষ্ঠ তলা ঃ অনুষ্ঠানাদির জন্য নির্ধারিত স্থানে কমিউনিটি স্পেস, কমন রুম, ২টি ডরমেটরী, ডাক্তারের চেম্বার,  ট্রাস্ট অফিস ইত্যাদি থাকবে।

ঙ) ৭ম-১৩ তম তলা ঃ ১১২২ বর্গফুট বিশিষ্ট প্রতি তলায় ১২ টি করে মোট ৮৪ টি আবাসিক ফ্ল্যাট।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা    ঃ    ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে।
 

৩টি চালু প্রতিষ্ঠান/কারখানার চিত্র

 

১।    পুর্ণিমা ফিলিং এন্ড সার্ভিসিং স্টেশন ঃ 

২০০৯ সালে মূলধনের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। বর্তমানে প্রতিমাসে প্রায় গড়ে ৭- ৮ লাখ টাকা লাভ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের নামে এখন প্রায় ২ কোটি টাকা ফিক্সড্ ডিপোজিট করা আছে।


২।    মিমি চকলেট লিঃ 

২০০৯ সালে এসে মূলধনের অভাবে এবং দীর্ঘ দিনের বকেয়া ঋণের কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারখানার মেশিনপত্র সেই ষাটের দশকের পুরানো বিধায় গুনগত মান বজায় রেখে পণ্য উৎপাদন করা যাচ্ছে না। তবে বর্তমানে মোটামুটি চলছে এবং কখনো লাভ আবার কখনো লোকসান, এই অবস্থায় এখনো চলছে। ব্যাংক ঋণ নেই। মূলধনের সমস্যা নেই।

৩।    ইস্টার্ণ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ

প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামে অবস্থিত। ষাটের দশকের শুরুতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আজ পর্যন্ত মেশিনপত্রগুলোর কোনো পরিবর্ধন পরিবর্তন করা হয়নি। ২০০৯ সালে মূলধনের অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তবে মার্কেটিং ব্যবস্থার উন্নয়ন করে ২০১০-২০১২ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনকভাবে চালানো হয়। কিন্তু বর্তমানে কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের বাজার সংকুচিত হওয়ার কারণে ২০১৩ সালে এসে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে।
 
২০০৯ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর সংক্ষিপ্ত চিত্র ঃ

    ২০০৯ সালে ট্রাস্টে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চলমান বেতন ভাতাদি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

    ট্রাস্টের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বিগত ১২-১৫ বৎসর যাবৎ টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেডস্কেল প্রাপ্যতা সত্বেও আর্থিক অস্বচ্ছলতা কারণে সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

    ট্রাস্টের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মধ্যে কোনো রকম কাজের মনোভাব ও পরিবেশ ছিল না।

    ২০/২৫ বছরের বকেয়া পড়ে থাকা প্রায় ৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল অপরিশোধিত অবস্থায়  ছিল। সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ থেকে সার্টিফিকেট মামলা হয়েছিল এবং তাদের পক্ষে রায় নিয়ে ট্রাস্টের সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে টাকা আদায়ের নোটিশ দিয়েছিল।

    ২০০১ সন হতে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অবসর গ্র্যাচুইটি প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৯ সালে এসে বকেয়া দাড়ায় প্রায় ৫ কোটি টাকা।

    ১৯৭২ সাল থেকে অনিষ্পত্তি অডিট আপত্তি হয় ৩১৮৭টি, যার টাকার পরিমান ৪৩২০৯.৭০ লক্ষ(চারশত বত্রিশ কোটি নয় লক্ষ সত্তর হাজার) 

    আশির দশকে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০/২৫ বছর যাবত বন্ধ থাকায় এর মেশিনপত্র ও স্থাপনা প্রায় অকেজো/ব্যবহারের অযোগ্য অবস্থায় পড়ে ছিল।

    জমি সংক্রান্ত কাগজ ও দলিল ঘেটে দেখা যায় প্রায় সকল পরিত্যক্ত স্থাপনার জায়গা জমিগুলোর দলিল,পর্চা, রেকর্ড এবং নামজারি নেই। 

    যে সকল কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পর লীজ দেওয়া হয়েছিল তার সবগুলোই লীজি গ্রহীতাগণ ১/২ বছর চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে চলে যায়। তারপর লীজ গ্রহীতা ও ট্রাস্টের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা মোকদ্দমায় এমন জটিলতার সৃষ্টি হয় যে জমিগুলো নিয়ে কোন পরিকল্পনা করারও সুযোগ ছিল না। ২০০৯ সালে এসে ট্রাস্টের মামলা পরিচালনারও আর্থিক সঙ্গতি ছিলনা।

    ঢাকার পোস্তগোলা ও টিকাটুলিতে ৫টি দাগে এবং চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ৩টি দাগে মোট ৮.৫০ একর জমির নামজারী এবং দালিলিক জটিলতায় আবদ্ধ ছিল। যার সরকারী মূল্য ১৩০ কোটি টাকা এবং বেসরকারীভাবে এর মূল্য ৪/৫ গুন বেশী হবে।

    নারায়নগঞ্জে ১.৪৪ একর জমি প্রায ৪০ বছর ধরে অবৈধ দখলদারদের দখলে ছিল। যার আনুমানিক মূল্য ৭০-৭২ কোটি টাকা । ভূমি সংক্রান্ত ১৪টি মোকদ্দমা অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছিল। 

    জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের স্বাধীনতা পূর্ব ও স্বাধীনতা উত্তোর ১২৬.৪০ কোটি টাকা অত্র ট্রাস্টের ঋণ ছিল। জনতা ব্যাংক ঋণের জন্য ট্রাস্টের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করলে ব্যাংকের পক্ষে ডিগ্রী পায় এবং ট্রাস্টের সম্পত্তি ক্রোকাদেশ দেয়া হয়।

নিমজ্জিত অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ২০১০ সালে গৃহীত পরিকল্পনা

    কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সব বিষয়গুলো অবহিত করা হলে তিনি এ অবস্থা হতে উত্তোরণের জন্য সার্বিক দিক নির্দেশনা এবং পরামর্শ প্রদান করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ এবং নির্দেশনা অনুসারে ট্রাস্টকে নিমজ্জিত অবস্থা থেকে উত্তোরণের  জন্য উদ্ধার পরিকল্পনা ২০১০ প্রণীত হয়। 


    উক্ত উদ্ধার পরিকল্পনা নিম্নলিখিত লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত হয় ঃ

     ক.  দীঘ ২০/২৫ বছর যাবত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে সৃষ্ট সকল পুঞ্জিভূত সমস্যা দূরীকরণ; 

     খ.  বন্ধ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে উপনীত ০৩টি প্রতিষ্ঠান (১) পূর্ণিমা ফিলিং ষ্টেশন, (২) মিমি চকলেট লিঃ ও 
          (৩) ইস্টার্ণ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডকে সচল রাখা এবং লাভজনক করা। 

     গ. নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে ট্রাস্টকে আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা।

    উপরোক্ত উদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতির প্রতিফলন পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
 
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজ

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর  নির্বাহী কমিটি

 

ক্যাপশন

ছবি নম্বর ১-    বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভিত্তিপ্রস্তর-ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠান।

ছবি নম্বর ২-    বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর এর ফলক উন্মোচন করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

 


Share with :
Facebook Facebook