বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৮ August ২০১৪

বঙ্গবন্ধু ছাত্রবৃত্তি নীতিমালা ২০১২/ফরম

বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান

 

ভূমিকা ঃ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির গৌরব  এবং শৌর্য-বীর্যের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের অন্তর্নিহিত চেতনা জতি ও রাষ্ট্রের অমূল্য সম্পদ। এ অমূল্য সম্পদ অনাদিকাল নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা এবং সাহস হিসাবে কাজ করবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রধান স্তম্ভ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর নামে ছাত্র বৃত্তি মুক্তিযোদ্ধাদের পরবর্তী প্রজন্মের কল্যাণের পাশাপাশি চেতনাকে শক্তিশালী করবে।  জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা। তাই এ বৃত্তি প্রদান কার্যক্রমকে “বঙ্গবন্ধু ছাত্র বৃত্তি” নামে অভিহিত করা হবে।

 

২.বঙ্গবন্ধু ছাত্রবৃত্তি পরিচালনা কমিটি ঃ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর নির্বাহী কমিটি পরিচালনা কমিটি হিসাবে কাজ করবে।

 

৩.সিদ্ধান্ত ঃ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টীবোর্ডের ৬৫তম সভার ৩নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘বঙ্গবন্ধু ছাত্রবৃত্তি’ ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০১২ সালে যারা এইচএসসি পাশ করেছে তাদেরকে অন্তর্ভূক্ত করে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

 

৪.    উদ্দেশ্য ঃ

৪.১ঃ মুক্তিযোদ্ধাদের মেধাবী সন্তান, পরবর্তী প্রজন্মদেরকে লেখা-পড়ায় সহায়তা ও উত্সাহ প্রদান।

৪.২ঃ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রবাহ নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাগ্রত এবং শক্তিশালীকরণ।

 

৫.    নামকরণঃ এ নীতিমালা ‘বঙ্গবন্ধু ছাত্র বৃত্তি’ নীতিমালা ২০১২নামে অভিহিত হবে।

 

৬.    সংজ্ঞাঃ

      ৬.১ঃ  “মন্ত্রণালয়” বলতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বুঝাবে।

      ৬.২ঃ  “ফান্ড” বলতে বঙ্গবন্ধু ছাত্রবৃত্তি ফান্ডকে বুঝাবে।

      ৬.৩ঃ “বৃত্তি” বলতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু ছাত্রবৃত্তিকে বুঝাবে।

     ৬.৪ঃ “কল্যাণ ট্রাস্ট” বলতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে বুঝাবে।

     ৬.৫ঃ “নির্বাহী কমিটি” বলতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর নির্বাহী কমিটিকে বুঝাবে।

৬.৬ঃ “সভাপতি” বলতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সভাপতি  (মাননীয় মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)-কে বুঝাবে।

     ৬.৭ঃ “সদস্য” বলতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দকে বুঝাবে।

৬.৮ঃ “সদস্য সচিব” বলতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির-সদস্য সচিব (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট) কে বুঝাবে।

৬.৯ঃ “মুক্তিযোদ্ধা” বলতে নিম্নাক্ত মানদন্ডের ব্যক্তিবর্গকে বুঝাবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক স্বাক্ষরিত সাময়িক  সনদপত্র ধারী।

৬.১০ঃ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাঃ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বলতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক স্বাক্ষরিত যুদ্ধাহত  মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সাময়িক সনদপত্র ধারী।

৬.১১ঃ মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারঃ মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বলতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক স্বাক্ষরিত সাময়িক সনদপত্র ধারী মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার উত্তরাধিকারীকে বুঝাবে।

৬.১২ঃ শহীদ পরিবার ঃ শহীদ পরিবার বলতে শহীদ হিসেবে সনদপ্রাপ্ত শহীদের উত্তরাধিকারীকে  বুঝাবে।

 

৭.   শর্তাবলীঃ

৭.১ঃ উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণসহ উচ্চতর শিক্ষায় অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রী বৃত্তির জন্য দরখাস্ত করতে পারবে। উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার ২ বত্সর অতিক্রান্তের পূর্বেই এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হবে।

৭.২ঃ উচ্চ শিক্ষার মোট সময়কাল অর্থাত দরখাস্তকারি অধ্যয়নরত সর্বোচ্চ মাষ্টার্স/সমপর্যায় সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত এ বৃত্তি চালু থাকবে, এবং তা সর্বোচ্চ ৫ বছর বলবত থাকবে। তবে, সেশনজটের কারণে অনার্স/ মাষ্টার্স/সমপর্যায় শেষ করতে যে সময় অতিরিক্ত লাগবে সে সময়েও বৃত্তি প্রদান অব্যাহত থাকবে।

৭.৩ঃ মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে পিএইচডি প্রত্যাশী আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে আগ্রহী ও মেধা সম্পন্ন ১/২ জনকে প্রতি বত্সর নীতিমালা অনুসারে বৃত্তি প্রদান করা হবে।

 

৮.     যোগ্যতা ঃ

৮.১ঃ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চতর শিক্ষায় অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রী বৃত্তির জন্য দরখাস্ত করতে পারবে। উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার দুই বত্সর অতিক্রান্তের পূর্বেই এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হবে।

৮.২ঃ  মুক্তিযোদ্ধার মেধাবী পুত্র কন্যা, পুত্র কন্যার পুত্র কন্যা ও পরবর্তী প্রজন্ম ।

৮.৩ঃ যে সকল ছাত্র/ছাত্রীর পিতা/মাতা/অভিভাবকের মাসিক আয় ত্রিশহাজার টাকার নিম্নে বা ১০ বিঘার নিম্নে কৃষি জমির  মালিক বা বিভাগীয় শহরে যার নিজস্ব বাড়ী/ফ্ল্যাট নাই।

 

৯.     অযোগ্যতা ঃ 

 ৯.১ঃ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার দুই বত্সর অতিক্রান্ত হলে এ বৃত্তির জন্য আবেদন করা যাবে না।

৯.২ঃ বৃত্তির জন্য দুইবার অকৃতকার্য আবেদনকারী আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।

৯.৩ঃ কোন ছাত্র/ছাত্রীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কোন কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ার প্রমান পাওয়া গেলে বা নৈতিকভাবে অধ:পতন হলে বা ফৌজদারী অপরাধে দন্ডিত হলে (দেশে/দেশের বাইরে) আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।        

৯.৪ঃ যে সকল ছাত্র/ছাত্রীর পিতা-মাতা/অভিভাবকের মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকার উর্দ্ধে বা ১০ বিঘা বা তদুর্দ্ধ কৃষি জমির  মালিক বা বিভাগীয় শহরে যার নিজস্ব বাড়ী/ফ্ল্যাট রয়েছে।

৯.৫ঃ সরকারের অন্য কোনো  উত্স হতে আবেদনকারি বৃত্তি প্রাপ্ত হলে।

৯.৬ঃ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র কন্যা, পুত্র কন্যার পুত্র কন্যা ও পরবর্তি প্রজন্ম না হলে।

৯.৭ঃ নির্ধারিত আবেদন ফরমে আবেদন করা না হলে।

 

১০.   দরখাস্ত যাচাই বাছাই করার জন্য  নিম্নরূপএকটি কমিটি গঠন করা হলোঃ

(১) পরিচালক, কল্যাণ, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট-                            সভাপতি

(২)  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি(উপ-সচিব এর নিম্নে নহে)-      সদস্য

(৩)  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি(উপ-সচিব এর নিম্নে নহে)-                  সদস্য

(৪)  পরিচালক, বেনবেইস-                                                     সদস্য

(৫)  মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এর প্রতিনিধি-                                 সদস্য

(৬)  মহাব্যবস্থাপক কল্যাণ,মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট-                          সদস্য সচিব

 

১০.২ঃ কমিটির কার্যপরিধি ঃ

১০.২.১ঃ প্রাপ্ত দরখাস্ত যাচাই বাছাই করতঃ খসড়া মেধা তালিকা তৈরী করবেন।

১০.২.২ঃ আবেদনকারিদের মাধ্যমিক (এসএসসি) এবং উচ্চমাধ্যমিক(এইচএসসি) পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ-এর গড় হতে জিপিএর ভিত্তিতে প্রাথমিক মেধা তালিকা তৈরী করতে হবে। গড় জিপিএ-এর পর প্রাথমিক মেধা তালিকা তৈরীর সময় মেধা তালিকার আওতায় আসা একই জিপিএ প্রাপ্তদের একজন তালিকাভূক্ত হলে একই জিপিএ প্রাপ্ত সকলকেই প্রাথমিক মেধা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

১০.২.৩ঃ আবেদনকারীদের মেধাক্রমের তথ্য বেনবেইস এর মাধ্যমে যাচাই করে নিতে হবে।

১০.২.৪ঃ প্রতি বত্সর প্রাথমিক মেধা তালিকা তৈরী করার সময় বৃত্তির জন্য নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কমপক্ষে দ্বিগুন সংখ্যক প্রার্থীর তালিকা তৈরী করতে হবে।

১০.২.৫ঃ বাছাইকৃত আবেদনগুলো শিক্ষাবোর্ড অনুসারে আলাদা  করতে হবে।

১০.২.৬ঃ প্রত্যেক বোর্ড হতে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এর মার্কশিট কল্যাণ ট্রাস্ট এর মাধ্যমে সংগ্রহ করতঃ চূড়ান্ত খসড়া তালিকা তৈরী করতে হবে।

১০.২.৭ঃ এ তালিকা মু্িক্তযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে তা চুড়ান্ত তালিকা হিসেবে প্রকাশ করা হবে।

১০.২.৮ঃ আবেদন বাছাই, মূল্যায়ণ, মূল্যায়ণ সিট তৈরীসহ সংশ্লিষ্ট  সকল কাজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

১০.২.৯ঃ এ নীতিমালায় উল্লিখিত পিএইচডির জন্য বৃত্তি প্রদানের মেধা সূচকসহ চূড়ান্তভাবে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাজ সম্পাদন করতে হবে।

 

১১.   বৃত্তি প্রদান পদ্ধতি ঃ 

১১.১ঃ বৃত্তি পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বৃত্তি প্রদানের প্রতি বত্সর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল অনুসারে মেধা তালিকা প্রস্তুত করণের জন্য  জাতীয় দৈনিক  পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি (বাংলা ১টা ও ইংরেজী ১টা) দিয়ে দরখাস্ত আহবান করা হবে।

১১.২ঃ সকল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সঠিক সময়ে বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে অবগত করানোর জন্য বিজ্ঞাপন ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা  সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উপজেলা কমান্ডকে কাউন্সিলকে অবহিত করা হবে ।

১১.৩ঃ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর বঙ্গবন্ধু ছাত্র বৃত্তির নির্ধারিত ফরম এ আবেদন করতে হবে।

১১.৪ঃ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট হতে এ বৃত্তি ফরম বিতরণ/প্রদান করা  হবে এছাড়া ওয়েবসাইট হতে ডাউনলোড করে আবেদন করা যাবে।

১১.৫ঃ এসএসসি (বা সমমান) ও এইচএসসি (বা সমমান) পরীক্ষার সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত কপি ও ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের সদ্য তোলা রঙ্গিন ছবিসহ নির্ধারিত আবেদন পত্রে উল্লেখিত অন্যান্য সকল কাগজপত্র  আবেদন পত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

১১.৬ঃ মুক্তিযোদ্ধা সনদের এবং গেজেটের সত্যায়িত কপি আবেদন পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

১১.৭ঃ বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীকে নিকটতম অগ্রণী ব্যাংকের যে কোন শাখায় একটি হিসাব খুলে হিসাব নম্বর ট্রাস্টকে অবহিত করতে হবে।

১১.৮ঃ  ট্রাস্ট থেকে বৃত্তির টাকা বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীর ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি প্রেরণ করা হবে। অন্য কোনো নামের একাউন্টে বৃত্তির টাকা দেওয়া হবে না।

 

১২.   তদারকি পদ্ধতি ঃ             

১২.১ঃ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীগণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর পক্ষে পরিচালক(কল্যাণ) সার্বক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপন করবে এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরী করে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করবে।   

১২.২ঃ প্রত্যেক বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীর জন্য একটি স্বতন্ত্র ফাইল কল্যাণ বিভাগ রক্ষনাবেক্ষন করবে,শিক্ষার্থীর বৃত্তি সংক্রান্ত প্রাথমিক দরখাস্ত হতে শুরু করে সকল তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।

১২.৩ঃ কল্যাণ বিভাগ বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের প্রতি ছয় মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে অধ্যয়ন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবে।

১২.৪ঃ প্রতি বত্সর কল্যাণ বিভাগ বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষার ফল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে সংগ্রহ করবে এবং ফলাফল মূল্যায়ন করবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীর গড় ফল সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ফল পর্যালোচনা করবে।

 

১৩.   বৃত্তি বহাল থাকার শর্তাবলী ঃ

১৩.১ঃ বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীকে অবশ্যই নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে।

১৩.২ঃ বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীকে বত্সর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে Progress Report এবং শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে এ মর্মে প্রতিষ্ঠান প্রধান/বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়নপত্র ট্রাস্টের কল্যাণ বিভাগে জমা দিতে হবে।

১৩.৩ঃ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে বা স্ব স্ব শিক্ষাবর্ষ হতে পরবর্তি শিক্ষা বর্ষে উত্তীর্ণ না হলে বৃত্তিপ্রদান সরাসরি বন্ধ হয়ে যাবে।

১৩.৪ঃ বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রী যে প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ণ করবেন সে প্রতিষ্ঠানের স্ব স্ব শ্রেণীর মোট ছাত্রের যে  গড় ফলাফল তার থেকে শিক্ষার্থী ফল খারাপ হলে বৃত্তি বন্ধ হয়ে যাবে। 

 

১৪.  সীমাবদ্ধতা ঃ সম মেধাসম্পন্ন হলেও একই সঙ্গে এক পরিবারে একের অধিক বৃত্তি প্রদান করা হবে না এবং ছাত্র,ছাত্রীর জন্য আলাদা কোন কোটা থাকবে না।

 

১৫.  বঙ্গবন্ধু ছাত্রবৃত্তির তহবিল ঃ

১৫.১ঃ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট প্রাথমিক পর্যায়ে নিজস্ব তহবিল থেকে ৩০(ত্রিশ) কোটি টাকার একটি স্থায়ী তহবিল ব্যাংকে স্থায়ী আমানত রাখা হবে। উক্তরূপ জমাকৃত অর্থ হতে প্রাপ্ত লভ্যাংশ প্রতি মাসে প্রায় ৩০(ত্রিশ) লক্ষ টাকার সংস্থান করবে। ট্রাস্টের আর্থিক অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে এ তহবিলের অর্থের পরিমান ও ছাত্র/ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

১৫.২ঃ ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (Fixed deposit) ৩০(ত্রিশ)কোটি টাকা ট্রাস্টের  অন্য কোন কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে  ব্যয় করা যাবে না।

১৫.৩ঃ উক্তরূপ জমাকৃত ৩০(ত্রিশ) কোটি টাকা হতে প্রাপ্ত লভ্যাংশ প্রতিমাসে ছাত্র/ছাত্রীর বৃত্তি প্রদান করা হবে।

১৬. বৃত্তির পরিমান ঃ

 

১৬.১ঃ  ছাত্র/ছাত্রী এবং শ্রেণী (বর্ষ) নির্বিশেষে বৃত্তির পরিমান মাসিক ১,০০০/-(এক হাজার) টাকা। মাসিক/ত্রৈমাসিক  (Monthly/Quarterly) ভিত্তিতে বৃত্তির টাকা ছাত্র/ছাত্রীদের এ্যাকাউন্টে প্রেরণ করা হবে।

১৬.২ঃ  বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রী মেডিক্যাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যয়নরত হলে মাসিক বৃত্তির হার অন্যান্যদের তুলনায় কিছুটা বেশী নির্ধারণ করতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাহী কমিটি কর্তৃক সিদ্ধান্ত  গ্রহন করা হবে। দুইজন পিএইচডি’র ছাত্র/ছাত্রীর মাসিক বৃত্তির হার গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় খরচের ভিত্তিতে নির্বাহী কমিটি নির্ধারণ করবে।

 

১৭. বৃত্তির পর্যায় বিভক্তি ঃ

১৭.১ঃ  বৃত্তি শুরুর বত্সর ৬০০ জন ছাত্র/ছাত্রী (১ম বর্ষ) = মোট ৬০০ জন = ৬০০ x ১০০০ = মাসিক খরচ ৬ (ছয়) লাখ।

১৭.২ঃ  বৃত্তি শুরুর দ্বিতীয় বত্সর (১ম বর্ষ ৬০০ জন+২য় বর্ষ ৬০০জন) = মোট ১২০০জন =১২০০ x ১০০০ = মাসিক খরচ ১২ (বার) লাখ।

১৭.৩ঃ  বৃত্তি শুরুর তৃতীয় বত্সর ( ১ম +২য়+৩য় বর্ষ) = মোট ১৮০০ জন = ১৮০০ x ১০০০ = মাসিক খরচ ১৮ (আঠার) লাখ।

১৭.৪ঃ  বৃত্তি শুরুর চতুর্থ বত্সর (১ম+২য়+৩য়+৪র্থ বর্ষ) = মোট ২৪০০ জন = ২৪০০ x ১০০০ = মাসিক খরচ ২৪ (চব্বিশ) লাখ।

১৭.৫ঃ  বৃত্তি শুরুর পঞ্চম বত্সর (১ম +২য়+৩য়+৪র্থ+৫ম বর্ষ) = মোট ৩০০০ জন  ছাত্র/ছাত্রী বৃত্তির আওতায় আসবে।          

সর্বমোট  মাসিক খরচ ৩০ (ত্রিশ) লাখ। বৃত্তি শুরুর পঞ্চম বত্সর থেকে অব্যাহতভাবে প্রতি বত্সর  ৩০০০ জন ছাত্র/  ছাত্রীকে বৃত্তি প্রদান করা হবে।

১৭.৬ঃ  প্রতি বত্সর ১/২ জন, যারা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে দেশের অভ্যন্তরে পিএইচডি করবে তাদেরকে বৃত্তি প্রদান করা হবে।

 

১৮.   কোটা পদ্ধতি ঃ প্রতি ব্যাচে ৬০০ জন ছাত্র/ছাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি উপজেলায় অন্তত এক জনের কোটা নির্ধারিত থাকবে। এ একজন বাছাই হবে উপজেলা ভিত্তিক মেধা  অনুসারে। প্রতি উপজেলায় একজন করে বৃত্তি দেওয়ার পর যত সংখ্যক বৃত্তি বাকি থাকবে তা দেশব্যাপি মেধা তালিকা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

 

১৯. বৃত্তির আওতা বৃদ্ধি ঃ পর্যায়ক্রমে ট্রাস্টের আর্থিক উন্নতি হলে বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা এবং মাসিক বৃত্তির পরিমান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হবে।

 

২০. আবেদন পত্র নীতিমালার অংশ ঃ স্বতন্ত্রভাবে প্রণীত আবেদন পত্র (সংযোজনী-ক) এ নীতিমালার অংশ বলে গণ্য হবে। আবেদন পত্র বিনা মূল্যে আগ্রহী ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

 

২১.সংশোধনী ঃ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টী বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে এ নীতিমালার যে কোন অংশ সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করতে পারবে। নীতিমালার কোন বাক্য বা শব্দের অস্পষ্টতা থাকলে বা কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে  বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটি যে ব্যাখ্যা দিবে সকল ক্ষেত্রে তাই চুড়ান্ত ব্যাখ্যা বলে গণ্য হবে।

 

২২.সংরক্ষণ থাকা ঃ  বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটি কোন কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে যে কোন অথবা সকল আবেদনপত্র গ্রহণ অথবা বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।

 

 

Bangabandhu Chhatro Brritti Form.pdf Bangabandhu Chhatro Brritti Form.pdf

Share with :
Facebook Facebook